সর্বশেষঃ

৩০ বছর বয়সের পর থেকেই পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা প্রতিবছর গড়ে ১ শতাংশ করে কমতে থাকে। ৪৫ থেকে ৫০-এর ঘরে পৌঁছালে এ প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। টেস্টোস্টেরন কমে গেলে তা শরীর, মন ও যৌনজীবনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে

নারী ও পুরুষ— উভয়ের দেহে একই ধরনের আটটি হরমোন আছে। পার্থক্য কেবল মাত্রা আর অনুপাতের। এ হরমোনগুলো কমতে শুরু করলে মানসিক, শারীরিক ও জৈবিক পরিবর্তন দেখা দেয়।

তবে নারীর মেনোপজ বা বয়সজনিত হরমোন পরিবর্তন নিয়ে আমরা অনেকেই পরিচিত। পুরুষদেরও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে ঘটে এক নীরব রূপান্তর। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলা হয় —অ্যান্ড্রোপজ বা লেট-অনসেট হাইপোগোনাডিজম।

৩০ বছর বয়সের পর থেকেই পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা প্রতিবছর গড়ে ১ শতাংশ করে কমতে থাকে। ৪৫ থেকে ৫০-এর ঘরে পৌঁছালে এ প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। টেস্টোস্টেরন কমে গেলে তা শরীর, মন ও যৌনজীবনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

অ্যান্ড্রোপজের লক্ষণ অনেক সময় অবসাদ বা বয়সজনিত সমস্যা হিসেবে ধরা পড়ে। সাধারণ কিছু উপসর্গ হলো—

নারীর মেনোপজের সঙ্গে পার্থক্য

নারীদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন হরমোন হঠাৎ বন্ধ হয়ে মাসিক থেমে যায়—অর্থাৎ একধরনের নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকে। কিন্তু পুরুষদের টেস্টোস্টেরন ধীরে ধীরে কমে, কখনো পুরোপুরি বন্ধ হয় না। তাই শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটলেও পুরুষরা পরিণত বয়সেও সন্তান জন্মদানে সক্ষম থাকেন।

জীবনযাপন পরিবর্তনেই সমাধান

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওষুধ নয়, জীবনযাপনের পরিবর্তনই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

কিছু ক্ষেত্রে রক্ত পরীক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি দেয়া যেতে পারে। তবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকায় এটি কেবল বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানেই করা উচিত।

নারীর মেনোপজ নিয়ে সমাজে যেমন আলোচনা ও সহমর্মিতা বেড়েছে, তেমনি পুরুষের হরমোন পরিবর্তন ও মানসিক প্রভাব নিয়েও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পুরুষের মানসিক বা যৌন সমস্যা নিয়ে সমাজে এখনো অনেক ট্যাবু রয়েছে। অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে সংকোচবোধ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *