সর্বশেষঃ

বদলী হজ (হজ্জে বদল) বলতে বোঝায়—কোন ব্যক্তি নিজে হজ করতে অক্ষম হলে তার পক্ষ থেকে অন্য কেউ হজ আদায় করা।
✅ কারা বদলী হজ করতে পারে?
১. যে ব্যক্তি নিজে হজ আদায় করেছে
👉 যিনি অন্যের পক্ষ থেকে হজ করবেন, তার নিজের ফরজ হজ আগে সম্পন্ন থাকতে হবে।
📖 হাদিস:
এক ব্যক্তি বলল, “হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার ভাইয়ের পক্ষ থেকে হজ করবো?”
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি নিজের হজ করেছ?”
সে বলল, “না।”
তিনি বললেন, “আগে নিজের হজ কর, তারপর অন্যের পক্ষ থেকে কর।”
— (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৮১১)
২. যে ব্যক্তি শারীরিকভাবে সক্ষম ও আমানতদার
👉 তাকে সুস্থ, বিশ্বস্ত ও হজের নিয়ম জানা থাকতে হবে।
৩. পুরুষ বা মহিলা—উভয়েই করতে পারে
👉 একজন মহিলা পুরুষের পক্ষেও হজ করতে পারে, এবং পুরুষও মহিলার পক্ষ থেকে করতে পারে।
📖 হাদিস:
এক মহিলা জিজ্ঞেস করলেন, “আমার বাবা বৃদ্ধ, তিনি হজ করতে পারেন না, আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করবো?”
রাসূল (সা.) বললেন, “হ্যাঁ, করো।”
— (সহীহ বুখারী, হাদিস: ১৫১৩)
❗ কার জন্য বদলী হজ করা যাবে?
১. মৃত ব্যক্তি
👉 যে ব্যক্তি হজ ফরজ হওয়ার পর মারা গেছে কিন্তু হজ করতে পারেনি।
২. জীবিত কিন্তু স্থায়ীভাবে অক্ষম ব্যক্তি
👉 যেমন—অত্যন্ত বৃদ্ধ, বা এমন অসুস্থ যিনি কখনো হজে যেতে পারবেন না।
📖 হাদিস:
এক মহিলা বললেন, “আমার মা হজের মানত করেছিলেন কিন্তু আদায় করার আগেই মারা গেছেন।”
রাসূল (সা.) বললেন, “তুমি তার পক্ষ থেকে হজ কর।”
— (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১১৪৮)
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
যার পক্ষ থেকে হজ করা হবে, তার উপর হজ ফরজ হয়েছিল
জীবিত হলে তার অনুমতি থাকতে হবে
খরচ সাধারণত তার সম্পদ থেকেই হওয়া উত্তম
📝 সংক্ষেপে
👉 নিজের হজ আগে → তারপর অন্যের হজ
👉 মৃত বা স্থায়ী অক্ষম ব্যক্তির পক্ষেই করা যাবে
👉 নারী-পুরুষ উভয়েই করতে পারে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *