গীবত সম্পর্কে বর্তমান সময়ে প্রচলিত গুরুত্বপূর্ণ ৭টি বিষয় 

গীবত এমন এক ভয়ংকর গুনাহ—যা আমরা অনেক সময় বুঝতেই পারি না, অথচ প্রতিদিনই করে ফেলি। চলুন জেনে নিই গীবতের প্রচলিত ৭টি রূপ


নিকৃষ্টতম গীবতের একটি হলো খাবারের গীবত।

একজন মানুষ কষ্ট করে রান্না করে, আর আমরা সমালোচনায় ব্যস্ত—

“খাবারটা মজা হয়নি”

“লবণ কম/বেশি”

“মুখে দেওয়া যাচ্ছে না”

বিশেষ করে বিয়েবাড়িতে এই গীবত বেশি হয়।

রাসূল ﷺ কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না
ভালো না লাগলে চুপচাপ এক পাশে রেখে দিতেন।
কারো শারীরিক গঠন নিয়ে আড়ালে আলোচনা করাও গীবত—

মোটা / খাটো

নাক বোঁচা

চোখ ছোট

টাক / ভুঁড়ি

হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর একটি কথার জবাবে
রাসূল ﷺ বলেন:

“এমন কথা বলেছো, যা নদীর পানিতে মিশালে তাও দূষিত হয়ে যাবে”

(আবু দাউদ)

কারো পোশাক নিয়ে কটাক্ষ—

“ড্রেসটা বিশ্রী”

“খুব টাইট”

“পাতলা কাপড়”

আয়েশা (রাঃ) একবার কারো আচল লম্বা বললে
রাসূল ﷺ বলেন:

“থুথু ফেলো”
থুথুর সাথে গোশতের টুকরা বের হয়

(আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব)
কারো ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা—

অভদ্র

অলস

পেটুক

সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘুমায়

এ প্রসঙ্গে নাযিল হয় আয়াত—

“তোমরা পরস্পরের গীবত করো না”

(সূরা হুজরাত: ১১)

কাউকে ছোট করতে বলা—

“ওর বংশ নিচু”

“পূর্বপুরুষ ছিল কুলি/চোর”

রাসূল ﷺ বলেন:

“দীনদারি ও সৎকর্ম ছাড়া কারো ওপর কারো শ্রেষ্ঠত্ব নেই”

(আব্দুর রহমান আশ-শারানী)
কারো ইবাদতের ত্রুটি নিয়ে আলোচনা—

ঠিকমতো নামাজ পড়ে না

রোজা রাখে না

বড় হয়েও কুরআন জানে না

শেখ সাদী (রহ.)-এর ঘটনা থেকে শিক্ষা—

নিজ ইবাদত নিয়ে অহংকার করে অন্যের গীবত করা আরও বড় পাপ

(ইহইয়া উলূমিদ্দীন)

নিজে না বললেও—

গীবত শোনা

বাধা না দেওয়া

এটাও গীবত!

রাসূল ﷺ বলেন:
“গীবত শ্রবণকারীও গীবতকারীদের একজন”

(তাবরানী)

দোয়া

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে গীবত বলা, শোনা ও সমর্থন করা থেকে হেফাজত করুন।

আমিন

হ্যাশট্যাগ