
ভূমিকম্প: কোরআন ও হাদিসে কী বলা হয়েছে?

ভূমিকম্প শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা নয়—বরং আল্লাহর নিদর্শন, সতর্কবার্তা ও পরীক্ষা।

কোরআনে ভূমিকম্প সম্পর্কে

১️⃣ কিয়ামতের ভূমিকম্প – ভয়াবহ সতর্কবার্তা
﴿إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا﴾
— সূরা আজ–জিলজাল, ৯৯:১

অর্থ: “যখন পৃথিবীকে তার প্রবল ভূমিকম্পে কাঁপানো হবে।”
এই আয়াত দেখায়—ভূমিকম্প কিয়ামতের অন্যতম বড় লক্ষণ।
আল্লাহ পৃথিবীকে কাঁপিয়ে সতর্ক করেন
﴿أَفَأَمِنْتُمْ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمْ جَانِبَ الْبَرِّ﴾
— সূরা আল–ইসরাঃ ১৭:৬৮

অর্থ: “তোমরা কি নিশ্চিন্ত যে তিনি তোমাদেরকে ভূমিধস বা ভূকম্পনে নিমজ্জিত করবেন না?”
অবাধ্য জাতিদের ওপর আল্লাহর শাস্তি ছিল ভূমিকম্প
﴿فَأَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دَارِهِمْ جَاثِمِينَ﴾
— সূরা আল-আরাফ, ৭:৭৮

আদ ও সামুদ জাতিকে আল্লাহ ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধ্বংস করেন।
আল্লাহ বলেন—ঘটনাগুলো চিন্তা করার জন্য পাঠানো হয়
﴿وَمَا نُرْسِلُ بِالْآيَاتِ إِلَّا تَخْوِيفًا﴾
— সূরা আল–ইসরা, ১৭:৫৯

অর্থ: “আমি নিদর্শন পাঠাই শুধু মানুষকে সতর্ক করার জন্য।”
হাদিসে ভূমিকম্প সম্পর্কে

১️⃣ ভূমিকম্প আল্লাহর সতর্কবার্তা
রাসূল ﷺ বলেছেন—
“যখন ব্যভিচার, সুদ এবং অন্যায় বাড়ে, তখন ভূমিকম্প ও মহামারি বৃদ্ধি পায়।”
— তাবরানি, হাকিম
কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে ভূমিকম্প বেড়ে যাবে
“কিয়ামতের আগে ভূমিকম্পগুলো বেড়ে যাবে।”
— সহিহ বুখারি, হাদিস ১০৩৬
আজ পৃথিবীতে ভূমিকম্পের ঘনঘনতা—একটি কিয়ামতের পূর্ব লক্ষণ।

বিপদ আসলে বেশি বেশি তাওবা করতে বলা হয়েছে
রাসূল ﷺ বললেনঃ
“বিপদ ও ভয়াবহ ঘটনা দেখা দিলে তাওবা ও দোয়ার দিকে ফিরে আসো।”
— তিরমিজি
মুমিনের করণীয়

১. ইস্তেগফার বেশি করা
“আস্তাগফিরুল্লাহ” বেশি বেশি বলা।

২. দুই রাকাত নফল সালাত (সালাতুল হাজত)

৩. সূরা ফালাক + নাস নিয়মিত পড়া

৪. গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা
—
উপসংহার

“ভূমিকম্প আল্লাহর শক্তির এক মহান নিদর্শন, সতর্কবার্তা এবং আমাদের জন্য চিন্তা–ভাবনার উপকরণ।”

“তাওবা, নামাজ, দোয়া আর আল্লাহর প্রতি ভরসাই নিরাপত্তার একমাত্র পথ।”

আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিরাপদ রাখুন। আমিন।