সর্বশেষঃ

সারা বিশ্বে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে (এএসডি) ভুগছে লাখ লাখ শিশু। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। দেশে অটিজমের প্রকোপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি গবেষণার তথ্য মতে, প্রতি ৬৮ জন শিশুর মধ্যে ১ জন অটিজমে ভুগছে।

গবেষণা তথ্য মতে, মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা অটিজমে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এসবের মধ্যে এখনো এই প্রশ্নের উত্তর অধরা যে, কেন অটিজম বা এডিএইচডি হয়। এই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো উত্তর এখনো চিকিৎসকদের কাছে নেই। নানা গবেষণায় উঠে এসেছে নানা তথ্য।

কিছুদিন আগে একটি রিসার্চ দাবি করে, গর্ভাবস্থায় জ্বর ও ব্যথার জন্য অনেকেই প্যারাসিটামল খেয়ে থাকেন। কিন্তু গর্ভবতী মায়েরা সবরকম ওষুধ খেতে পারেন না। এই সময় ব্যথা-যন্ত্রণা-চোটের জন্য পেইনকিলারও খেতে পারেন না নারীরা। গর্ভবতী মায়েরা বেশি প্যারাসিটামল খেলে নবজাতকদের মধ্যে অটিজম ও এএইচএডি-এর মতো অবস্থা তৈরি হতে পারে।

এই একই আশঙ্কার কথা শোনা গিয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখেও। তিনি বলেন, গর্ভবতী নারীদের প্যারাসিটামল খাওয়া এড়ানো উচিত। কারণ এটি শিশুদের মধ্যে অটিজমের ঝুঁকি বাড়ায়। কিন্তু এই দাবি নস্যাৎ করে দিল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র তারিক জাসারেভিকের দাবি, প্যারাসিটামল খাওয়ার সঙ্গে গর্ভাবস্থা ও অটিজম-এর মতো রোগের মধ্যে কোনো যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অটিজম কোনো রোগ নয়, একটি ডিজঅর্ডার। আর এর কোনো ভ্যাকসিনও হয় না। হবু মা প্যারাসিটামল খেলে সন্তানের অটিজমের ঝুঁকি বাড়ে এমন কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি পাওয়া যায় না।

 

কেন প্যারাসিটামল দেওয়া হয়

টাইলেনল নামে পরিচিত প্যারাসিটামল ওষুধটি প্রায়শই গর্ভবতী নারীদের ব্যথা কমানোর জন্য দেওয়া হয়। এ ছাড়া অন্য কোনো ধরনের ব্যথা যেমন— দাঁত ব্যথা, মাথা ব্যথা ও জ্বরেও এই ওষুধটি খুবই কার্যকর বলে মনে করা হয়। যদিও, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির পর এই ওষুধ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। তবে তাতেই দাঁড়ি টানলেন ডব্লিউএইচও-এর অধিকর্তা।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস-এর প্রধান ড. স্টিভেন ফ্লেশম্যান মনে করছেন, প্যারাসিটামল টাইলেনল নিয়ে এমন ভিত্তিহীন দাবি করা অনর্থক। ট্রাম্পের এই অহেতুক দাবি বহু গর্ভবতী নারীকে দ্বিধায় ফেলতে পারে। টাইলেনল ও অটিজমের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো যোগসূত্র দেখা যায়নি। এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামলকে নিরাপদ বলে মনে করে।

অন্যান্য বিকল্প

এমন পরিস্থিতিতে কোনো ওষুধ দেওয়ার আগে, এটি জানা খুবই জরুরি যে এর কোনো খারাপ প্রভাব মা বা শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর পড়বে কি না। তাই গর্ভাবস্থায় ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে তার পর খেতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *