
নমরুদ–ফেরাউন: ইতিহাসের ভয়ঙ্কর স্বৈরশাসকদের কোরআনিক বর্ণনা
মানব ইতিহাসে এমন কিছু শাসক ছিল যারা নিজেদেরকে “ঈশ্বর” দাবি করেছিল—
ক্ষমতার নেশায় অন্ধ হয়ে মানবতাকে পিষে ফেলেছিল।
কোরআনে তাদের পরিণতি আমাদের জন্য কঠিন শিক্ষা।
১️⃣ ফেরাউন — অহংকারের প্রতীক

নবী মূসা (আ.)-কে তিনি অমানবিক নির্যাতনে ফেলেছিলেন।
নিজেকে ঘোষণা করেছিল—
“أنا ربكم الأعلى” — ‘আমি তোমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিপালক।’

— সূরা নাজিয়াত ৭৯:২৪

তার শাসনব্যবস্থা

নির্দোষ শিশু হত্যা

দাস প্রথা

আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা


অহংকার, জুলুম ও নির্যাতন

আল্লাহর শাস্তি

লোহিত সাগরে ডুবে ধ্বংস

তার দেহ আজও সংরক্ষিত—মানবতার শিক্ষা হিসেবে

— সূরা ইউনুস ১০:৯২
নমরুদ — ক্ষমতার নেশায় পাগল রাজা
নবী ইবরাহিম (আ.)-এর যুগের রাজা।
সে দাবি করেছিল—
“আমি জীবন দেই, আমি মৃত্যু দেই।”

— সূরা আল-বাকারাহ ২:২৫৮

তার জুলুম

ইবরাহিম (আ.)-কে আগুনে নিক্ষেপ

নিজেকে ঈশ্বর ঘোষণা

মানুষকে ভয় দেখানো

আল্লাহর শাস্তি

মাত্র একটি মশা দিয়ে আল্লাহ তাকে ধ্বংস করেন।
মস্তিষ্কের ভেতরে প্রবেশ করে মৃত্যু হয়—
ক্ষমতা যেখানে শেষ, আল্লাহর কুদরতি সেখানেই শুরু।
আ’দ জাতির জালিম সম্রাট — হূদ (আ.)-এর বিরোধী

অপরাধ

শাস্তি
তীব্র ঝড় (ريح صرصر)

— সূরা হাক্কাহ ৬–৭
সামুদ জাতি — সালেহ (আ.)-কে অমান্যকারী

অপরাধ
আল্লাহর দানকৃত উটনী হত্যা

শাস্তি
ভয়ঙ্কর ভূকম্পন (رجفة)

— সূরা আল-আরাফ ৭৮
কারুন — সম্পদের স্বৈরাচার

পৃথিবীর সেরা ধনকুবের

অহংকার করে বলেছিল—
“এসব আমার জ্ঞান ও সামর্থ্যে অর্জিত।”

— সূরা কাসাস ৭৮

শাস্তি

তাকে ও তার সম্পদকে আল্লাহ ভূগর্ভে ধসিয়ে দেন।
ইসলামের শিক্ষা

আল্লাহ জুলুমকে পছন্দ করেন না।

প্রতিটি জালিমের শেষ পরিণতি ধ্বংস।

বিনয়, ন্যায়বিচার ও আল্লাহভীতি—একজন শাসকের প্রকৃত গুণ।
উপসংহার:

নমরুদ–ফেরাউন মনে করিয়ে দেয়—ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়।

আল্লাহ যখন বিচার করেন, কোনো রাজপ্রাসাদ, কোনো বাহিনী, কোনো সম্পদ রক্ষা করতে পারে না।

আসুন আমরা জুলুম থেকে দূরে থাকি এবং আল্লাহর পথে চলি।