রোগের কারণসমূহ:
1.

ইনফেকশন (মূত্রনালীতে জীবাণু সংক্রমণ) — UTI বা ব্লাডার ইনফেকশন।
2.

প্রোস্টেট গ্রন্থির সমস্যা — পুরুষদের মধ্যে প্রোস্টেট বড় হয়ে মূত্রনালীতে চাপ দেয়।

3.

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া — কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বা ঠান্ডার ওষুধে এমন হয়।
4.

ঠান্ডা লাগা বা শরীরে পানিশূন্যতা।
5.

মানসিক চাপ, ভয় বা উদ্বেগ।
6.

কিডনির পাথর বা ব্লাডারে স্টোন থাকলে মূত্র চলাচলে বাধা দেয়।
লক্ষণসমূহ:
1.

বারবার প্রস্রাবের বেগ আসা।
2.

বেগ অনেক কিন্তু প্রস্রাব বের হয় অল্প বা ফোঁটা ফোঁটা।
3.

প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, ব্যথা বা জ্বালা অনুভব।
4.

তলপেটে চাপ বা ব্যথা অনুভব।
5.

রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ লাগে।
6.

কখনও প্রস্রাব পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে (Acute Retention)।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা (Prescriptions):
>

ডোজ নির্ধারণের আগে রোগীর সম্পূর্ণ ইতিহাস দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। নিচে সাধারণ প্রেসক্রিপশন দেওয়া হলো:
1. Cantharis 30 / 200

প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালা, ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব, প্রতিবার বেগের পর ব্যথা।

ডোজ: দিনে ৩ বার ৩-৪ ফোঁটা।
2. Sarsaparilla 30

প্রস্রাব শুরু করতে কষ্ট হয়, প্রস্রাবের শেষে জ্বালাপোড়া, শিশুর ক্ষেত্রে খুব উপকারী।

ডোজ: দিনে ২ বার।
3. Apis Mellifica 30

প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া ও ফোলা ভাব, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে।

ডোজ: দিনে ৩ বার।
4. Nux Vomica 30


টেনশন, ঠান্ডা বা মদ্যপানের কারণে প্রস্রাব আটকে গেলে কার্যকর।

ডোজ: রাতে ঘুমের আগে ১ ডোজ।
5. Lycopodium 30 / 200

বয়স্ক পুরুষদের প্রোস্টেট বড় হলে, রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হয়।

ডোজ: সকালে ও রাতে ১ ডোজ।
পরামর্শ:

প্রচুর পানি পান করুন (দিনে অন্তত ২.৫ লিটার)।

ক্যাফে, সফট ড্রিংক, মশলাযুক্ত খাবার কমান।

ঠান্ডা থেকে শরীর রক্ষা করুন।

ইনফেকশন থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

নিয়মিত হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ নিন।
স্মরণীয় কথা:

“সঠিক সময়ে সঠিক ওষুধই রোগের স্থায়ী মুক্তি দেয়।”

হোমিওপ্যাথিতে এর স্থায়ী চিকিৎসা সম্ভব — পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই।
পুরুষদের জন্য হোমিও প্রেসক্রিপশন

সাধারণ কারণ:
প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি (Prostate Enlargement)
অতিরিক্ত মদ্যপান, ধূমপান বা মানসিক চাপ

হোমিওপ্যাথিক ওষুধসমূহ:
1. Cantharis 30 / 200

প্রস্রাবের সময় জ্বালা ও ব্যথা।

প্রস্রাব ফোঁটা ফোঁটা আসে, প্রতি বারে বেগ লাগে।

ডোজ: দিনে ৩ বার ৩-৪ ফোঁটা।
2. Lycopodium 200

বয়স্কদের প্রোস্টেট বড় হলে রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব।

প্রস্রাব শুরু হতে দেরি হয়।

ডোজ: সকালে একবার।
3. Nux Vomica 30

ঠান্ডা, মানসিক চাপ বা অতিরিক্ত খাবার-মদ্যপানের পর প্রস্রাব আটকে যায়।

ডোজ: রাতে ঘুমের আগে ১ ডোজ।
4. Sabina Q (Mother Tincture)

মূত্রনালীতে ইনফ্লেমেশন, ব্যথা ও হালকা রক্ত মেশা প্রস্রাব।

ডোজ: দিনে ২ বার ১০ ফোঁটা ½ কাপ পানিতে মিশিয়ে।
মহিলাদের জন্য হোমিও প্রেসক্রিপশন

সাধারণ কারণ:
ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশন (UTI)
ঠান্ডা লাগা, মূত্রনালীর প্রদাহ
প্রসব বা ঋতুস্রাবের পর দুর্বলতা
হোমিওপ্যাথিক ওষুধসমূহ:
1. Apis Mellifica 30

প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া ও চুলকানি।

ব্লাডার ফুলে থাকা বা ব্যথা অনুভূত হয়।

ডোজ: দিনে ৩ বার।
2. Sarsaparilla 30

প্রস্রাবের শেষে জ্বালাপোড়া, শুরু করতে কষ্ট হয়।

বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে কার্যকর।

ডোজ: দিনে ২ বার।
3. Sepia 200

প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা বা প্রস্রাবের বেগ থাকলেও সামান্য প্রস্রাব।

ঋতুচক্র অনিয়মিত ও মানসিক অবসাদ থাকলে খুব উপকারী।

ডোজ: সপ্তাহে ২ দিন এক ডোজ।
4. Berberis Vulgaris Q (Mother Tincture)

তলপেটে ব্যথা, প্রস্রাবের সময় জ্বালা ও ইনফেকশন।

ডোজ: দিনে ২ বার ১০ ফোঁটা ½ কাপ পানিতে মিশিয়ে।

সহজ পরামর্শ:

দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।

প্রস্রাব চেপে রাখবেন না।

খুব ঠান্ডা জায়গায় দীর্ঘক্ষণ বসে থাকবেন না।

কফি, চা, সফট ড্রিংক কমান।

নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন।