
এই ঘরটি ছিল হযরত আয়শা (রাঃ)-এর ঘর
এই ঘরেই ছিল একটি ছোট চৌকি

—যেখানে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ আরাম করতেন।

ঠিক এই চৌকির ওপরই হযরত আয়শা (রাঃ)-এর কোলে মাথা রেখে রাসূল ﷺ ইন্তেকাল করেন।

দাফন নিয়ে সাহাবায়ে কেরামের পরামর্শ
রাসূল ﷺ ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কেরাম চিন্তায় পড়ে যান—


কেউ বললেন: মসজিদে

কেউ বললেন: জান্নাতুল বাকীতে

তখন হযরত আবু বকর (রাঃ) বললেন—
“আমি রাসূল ﷺ থেকে শুনেছি, কোনো নবী যেখানে ইন্তেকাল করেন, সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়।”

সবাই একমত হলে এই ঘরেই রাসূল ﷺ-কে দাফন করা হয়।

দাফনের পরও আয়শা (রাঃ) এই ঘরেই বসবাস করতেন

রাসূল ﷺ ইন্তেকালের প্রায় ২ বছর পর হযরত আবু বকর (রাঃ) অসুস্থ হয়ে ইন্তেকাল করেন।

মৃত্যুর আগে তিনি বলেছিলেন—
“আমি চাই আমাকে রাসূল ﷺ-এর পাশে দাফন করা হোক, যদি আয়শা (রাঃ) অনুমতি দেন।”

আয়শা (রাঃ) অনুমতি দিলে রাসূল ﷺ- এর পাশেই আবু বকর (রাঃ)-কে দাফন করা হয়।

আয়শা (রাঃ)-এর ইচ্ছা ও উমর (রাঃ)-এর বিনয়
আয়শা (রাঃ)-এর ইচ্ছা ছিল—

তিনি নিজেও রাসূল ﷺ ও পিতা আবু বকরের পাশে দাফন হবেন।

কিন্তু মৃত্যুশয্যায় হযরত উমর (রাঃ) তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহকে ডেকে বললেন—
“মা আয়শা (রাঃ)-এর কাছে যাও।
আমাকে ‘আমিরুল মুমিনীন’ বলবে না—শুধু বলবে, উমর অনুমতি চাইছে।”

এই কথা শুনে আয়শা (রাঃ) কান্নায় ভেঙে পড়লেন।
দীর্ঘ সময় কেঁদে বললেন—
“এই জায়গাটি আমি নিজের জন্য রেখেছিলাম,
কিন্তু আজ আমি উমরের জন্য তা ছেড়ে দিলাম।”

উমর (রাঃ)-এর অতুলনীয় তাকওয়া
তিনি আবারও বলে দিলেন—
“আমার মৃত্যুর পর আবার অনুমতি চাইবে।
হতে পারে জীবিত অবস্থায় লজ্জায় পড়ে অনুমতি দিয়েছেন।
যদি আবার অনুমতি মেলে, তবেই দাফন করবে—
না হলে সাধারণ কবরস্থানে দাফন করো।”

মৃত্যুর পর অনুমতি চাইলে আয়শা (রাঃ) বললেন—
“উমরকে তার সাথীদের পাশে দাফন হওয়ার জন্য স্বাগতম।”

এক কবর থেকেও পর্দা!
উমর (রাঃ)-এর দাফনের আগে আয়শা (রাঃ) ঘরে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেন।

কিন্তু দাফনের পর তিনি পূর্ণ পর্দা

অবলম্বন করলেন।

আয়শা (রাঃ) বলেন—
“আল্লাহর কসম! এরপর থেকে আমি সেখানে প্রবেশ করিনি
যতক্ষণ না আমি আমার কাপড় শক্ত করে জড়িয়ে পূর্ণ পর্দা করেছি।”

ইলম ও তাকওয়ার জীবন

আয়শা (রাঃ) ৬৫ বা ৬৬ বছর বয়সে এই ঘরেই ইন্তেকাল করেন।

রাসূল ﷺ- এর ইন্তেকালের পর প্রায় ৪৭ বছর জীবিত ছিলেন।

এই দীর্ঘ সময় তিনি কাটিয়েছেন—

ইলমের চর্চা

উম্মতের ফিকির

ইবাদত ও তাকওয়ায়

শেষ ওসিয়ত—নম্রতার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত
মৃত্যুর আগে তিনি ওসিয়ত করেন—
“আমাকে রাসূল ﷺ- এর ঘরে দাফন কোরো না।
আমাকে তাঁর অন্যান্য স্ত্রীদের সঙ্গে জান্নাতুল বাকীতে দাফন করো।
আমি চাই না আমাকে তাঁদের চেয়ে বিশেষ বা অধিক পবিত্র মনে করা হোক।”

এরপর এই মহিয়সী নারীকে জান্নাতুল বাকীতে দাফন করা হয়।
রদ্বিআল্লাহু আনহা


একটি প্রশ্ন নারী সমাজের প্রতি

একটা কবর থেকেও যিনি পর্দা করেছেন—

জগতের শ্রেষ্ঠ সেই নারী!

তবুও আজ কেন আমরা পর্দা থেকে এত দূরে?

হে নারী সমাজ—ভাবুন!

(ছবি: মদিনা মিউজিয়াম থেকে সংগৃহীত)