চল্লিশ…
এই সংখ্যাটাকে সমাজ এমনভাবে ভয় দেখায় 
যেন এখানে এসে নারীর জীবন থেমে যায়।
কিন্তু কেউ বলে না—

নিজের শক্তি 
নিজের সীমা 
নিজের সহনশীলতা 
আর নিজের সেই “আমি”—
যেটা এতদিন সবার জন্য বাঁচতে বাঁচতে হারিয়ে গিয়েছিল।
বিশ বছরে নারী দৌড়ান স্বপ্নের পেছনে 
কারও হাত ধরে ভবিষ্যৎ আঁকতে 
ত্রিশে নারী দৌড়ান দায়িত্বের পেছনে 
সংসার, সন্তান, সম্পর্ক সামলাতে 
আর চল্লিশে?
চল্লিশে নারী আর দৌড়ান না।
নিজের দিকে,
নিজের ক্লান্ত মনের দিকে,
নিজের হারানো হাসির দিকে 
মায়ের বুকে জন্ম নেয় হালকা এক শূন্যতা।

কিন্তু মনের প্রশ্ন বাড়ে।
কে আছে, আর কে শুধু ছিল।
আর ঠিক তখনই—
ভেতরের সেই মেয়েটা মাথা তোলে 
যে একসময় বলেছিল,
“আমিও কিছু হতে চাই।”
❝ এই বয়সে আর কী হবে? ❞
❝ এখন এসব ভাবার সময় নাকি? ❞
❝ বয়স তো আর কমছে না! ❞
কিন্তু চল্লিশের নারী মনে মনে বলেন—
সব ভালোবাসা চিরদিন থাকে না।
সব মানুষ আপন হয় না।
সব কষ্ট কাউকে বলা যায় না।
সব হাসি সত্যি হয় না।
তবুও তিনি ভেঙে পড়েন না 
কারণ চল্লিশের নারী জানেন—
চুপ থাকা দুর্বলতা নয়—
চুপ থাকা আত্মসম্মান।
একাকিত্ব অভিশাপ নয়—
নিজের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ 
ভাঙা স্বপ্ন শেষ নয়—
নতুন স্বপ্ন বেছে নেওয়ার সাহস 
চল্লিশের নারী ভিতরে ভিতরে পাহাড় 
নিঃশব্দ, কিন্তু অটল।
কারণ তখন সৌন্দর্য শুধু মুখে থাকে না।
থাকে—
তিনি জানেন—
কাকে দূরে রাখতে হয়,
কাকে কাছে টানতে হয়,
আর কার কথাকে
নিঃশব্দে ছেড়ে দিতে হয়।
শরীর বদলায়।
মন দুলে ওঠে।
কিছু সম্পর্ক দূরে সরে যায়।
স্বপ্নগুলো প্রশ্ন করে—
❝ আমার কী হবে? ❞
সমাজ তাকিয়ে থাকে 
কথা বলে, বিচার করে।
তবুও তিনি হাসেন 
কারণ নারীর হাসি
প্রায়ই তার কষ্ট ঢাকার ঢাল।
এখন তিনি জানেন—
চল্লিশের পর জীবন সহজ হয় না—
কিন্তু স্পষ্ট হয়।
শক্ত হয়।
নিজের হয়। 
চল্লিশের নারী বয়সে বড়—
কিন্তু আত্মায় সবচেয়ে তরুণ 
সমাজ তাকে বলে “মধ্যবয়স্ক”,
আর তিনি নিজেকে বলেন—
চল্লিশের পর নারীর জীবন শেষ নয়—
এই বয়সেই শুরু হয়
তার নিজের জীবনের
সবচেয়ে সত্যিকারের অধ্যায়।